Logo

 
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ
Logo

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ সম্পর্কে

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল স্পেনের গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থশিশুদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে চারজন অনন্য ব্যক্তিত্বের ধারণার ভিত্তিতে ১৯৩৭ সালে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের জন্ম লাভ করে। আজ এই সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মানব হিতৈষী শিশু কেন্দ্রীক উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে- যেখানে কোন ধর্ম, রাজনীতি কিংবা সরকারের প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব নেই। বর্তমানে সংস্থাটি সারা বিশ্বে ৭৩টি দেশে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া থেকে শুরু করে জাম্বিয়া এবং ব্রাজিল থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পর্যন্ত ৫২টি উন্নয়নশীল দেশ এবং পূর্ব জাপান থেকে পশ্চিমে কানাডা এবং দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া থেকে উত্তরে ফিনল্যান্ড পর্যন্ত ২১টি দাতা দেশের ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন। কোনরূপ ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সরকারি পক্ষপাতিত্ববিহীন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল হ’ল একটি আন্তর্জাতিক মানবহিতৈষী শিশু কেন্দ্রীক উন্নয়নমূলক সংস্থা-যা যুক্তরাষ্ট্রের “নট ফর প্রফিট কর্পোরেশন ল” এর আওতায় রেজিস্ট্রেশনকৃত। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ভিশন হলো এমন একটা পৃথিবী যেখানে সব শিশুরাই সমাজ ব্যবস্থায় তাদের মাঝে লুকায়িত সম্ভাবনার বিকাশ সাধন করতে পারবে, যে সমাজ মানুষের অধিকার ও মর্যাদায় সম্মান প্রদর্শন করে। উন্নয়নশীল দেশের বঞ্চিত শিশুদের জীবন মানের স্থায়ী উন্নয়ন অর্জন করা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের লক্ষ্য; আর এ উন্নয়ন হবে এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যা বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষদেরকে মিলনের মেলবন্ধনে আবদ্ধ করে এবং তাদের জীবনে একটা অর্থ ও মূল্য সংযোজন করে। ১৯৮৯ সালে স্বীকৃতির পর প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল জাতিসংঘের সাথে রেজিস্টার্ড হয়েছে এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল এর সাথে পরামর্শ করার মর্যাদা লাভ করেছে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, এমন সব সমাজের সাথে কাজ করে যেখানে শিশুদের জীবন মানের উন্নয়নের জন্য প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক সহায়তাপ্রাপ্ত শিশুরাও বসবাস করে। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বকে চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। এশিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আমেরিকা অঞ্চল। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এশিয়া আঞ্চলিক অফিস এর অধীনে কাজ করে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে প্রথম কার্যক্রম শুরু করে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন কমিউনিটির সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে - যাতে তারা নিজেদের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজেরাই নিতে পারে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল প্রান্তিক কমিউনিটির সাথে কাজ করে, উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য সমাজের দরিদ্রতর অংশের লোকদেরকে সম্পৃক্ত করে থাকে। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কর্মপদ্ধতির মধ্যে মূল স্টেকহোল্ডাররা হ’ল শিশুরা, তাদের সমাজ এবং সেবাদানকারীরা, যারা শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশের জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত। বিস্তারিত পর্যালোচনা ও প্রক্রিয়ার পর প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ৪র্থ কান্ট্রি স্ট্রাটিজিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে, যা স্বাস্থ্য সেবা. গুণগত মৌলিক ও প্রাথমিক শিক্ষা, অরক্ষিত শিশুদের সংরক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তাদের জন্য স্থায়িত্বশীল জীবিকা অর্জনের বিষয়টি সম্ভব করে তোলার মাধ্যমে শিশুদের এবং তাদের সমাজের সক্ষমতা তৈরীর উপর আলোকপাত করেছে। আর এ সক্ষমতা তৈরী করা হচ্ছে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে পার্টনারশীপ সৃষ্টির মাধ্যমে; উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, এই সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে; সুশীল সমাজ সংগঠন, ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারের সংশ্লিষ্ট লাইন ডিপার্টমেন্ট, স্থানীয় ও জাতীয় এনজিও এবং মন্ত্রণালয় ও এদের সাথে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ডিপার্টমেন্ট।